Sunday, May 10, 2026
Homeগল্পনগরনাম তার কলিম উদ্দিন । আহমদ সায়েম

নাম তার কলিম উদ্দিন । আহমদ সায়েম

মানুষ ছাড় দেয়—কিছু পাওয়ার জন্য, আশায়, স্বপ্নে।
কেউ পায়, আর কেউ আরও বেশি হারিয়ে ফেলে। কিন্তু কেন?

—মামা, এই ‘কেন’-টা কিসের জন্য?
হারানোর জন্য, না পাওয়ার জন্য বলছেন?

—ও, তাই তো!
আমার সমস্যাটাই আসলে এখানে।
আমি যা বুঝে লিখি, পাঠক বোঝে আরেক রকম। বউও তাই বলে!
তবে শুনেছি, “বউ” ব্যাপারটা আলাদা।
সবার বউই নাকি ‘বলে’… মানে, বলতেই থাকে!

অনেকটা ফুটবল খেলার রেফারির মতো—
সারাক্ষণ মাঠজুড়ে দৌড়ায় আর বাঁশি বাজায়।
বাঁশি বাজানো সে বন্ধ করবে না।
সবাই বিরক্ত হয় রেফারির এই দৌড়ঝাঁপ আর বাঁশির শব্দে,
কিন্তু রেফারি ছাড়া কেউ খেলাও দেখতে চায় না।

তার মানে, বেদনা ভালো লাগে বলেই আমরা বউকে বাদ দিতে পারি না।
নাটক বা সিনেমায় যেমন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক লাগে—
ঘরে ঐ মিউজিক তুমি কোথায় পাইবা!
ঘরে এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা আর কী হতে পারে…
মাশা-আল্লাহ বলো, মাশা-আল্লাহ বলো।
নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কিন্তু এমন প্রাকৃতিক মিউজিক থেকেও ব্যঞ্জিত হইবা!

—বলছিলাম তো মামা… শুকরিয়া, শোকর আলহামদুলিল্লাহ।
কিন্তু মামা—আমার প্রশ্নটা আপনি গুলিয়ে ফেললেন।
এখন কী থেকে কী সব বলতেছেন…

—না না! আমি লাইনেই আছি।
তোমারে এইসব না বললে, আমার কথার মানে বুঝবা না।
পৃথিবীর কোনো কিছু এমনি এমনি হয় না।

তোমারে বলছিলাম—কে পায় আর কে হারায়?
এতক্ষণ পেছাল পাড়ায় এইটুকু লাভ হইছে—
তোমারে এখন বললেই তুমার বুঝতে সহজ হবে।

—সবকিছু সেই-ই পায়, যে রেফারির বাঁশি উপভোগ করে।

আর যে বেশি হারায়! —সে খেলা দেখে ঠিকই, কিন্তু সারাক্ষণ ভাবে—
“বাইরে যদি কোনোদিন এই রেফারিকে পাই, সেদিন তারে বুঝায়ে ছাড়ব—
যে আমার নাম কলিম উদ্দিন।”

৩০ জুন ২০২৫

 

আহমদ সায়েম
আহমদ সায়েমhttp://raashprint.net
জন্ম ১৯৭৮ সালের ৫ জানুয়ারি, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী শহর সিলেটে। তবে তাঁর বংশপরিচয়ের সূত্র টানলে ফিরে যেতে হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘আলী আমজাদের ঘড়ি’র কাছে-যার পারিবারিক রক্তধারা তাঁর শরীরেও বহমান। শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতিতে সিলেট যেমন একটি ভৌগোলিক নাম, তেমনি একটি সাংস্কৃতিক ও আবেগী পরিমণ্ডল। বর্তমানে তিনি পেশাগত কারণে সপরিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তিনি বিষাদমুক্ত জীবনবোধে আস্থাশীল, ভ্রমণপ্রিয় এবং বন্ধুবৎসল মানুষ হিসেবে পরিচিত। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতায় সক্রিয় সায়েম একাধারে কবি, সম্পাদক, পুস্তকপ্রকাশক, স্থিরচিত্রগ্রাহক এবং স্বতঃপ্রণোদিত তথ্যচিত্রনির্মাতা। আবির্ভাবকাল অনুযায়ী তিনি একবিংশ শতকের প্রথম দশকের লেখকপ্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি- অনক্ষর ইশারার ঘোর (২০১৫), কয়েক পৃষ্ঠা ভোর (২০১৯) এবং রুদ্ধজনের রাগ ও সম্বিৎ (২০২৫)। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতার ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Layers of Dawn। প্রকাশিতব্য দুইটি কবিতার বই রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই বের করার প্রস্তুতি চলতেছে। একটি ‘কবিতার খাতায় আঁকা ফিুড়ং’ এবং ‘আব্বার আনন্দবাজার’ নামে। তিনি সম্পাদনা করছেন সাহিত্যপত্র সূনৃত এবং ওয়েবম্যাগ রাশপ্রিন্ট। ছোটকাগজ সম্পাদনার জন্য ২০১৩ সালে তিনি অর্জন করেন ‘সমুজ্জ্বল সুবাতাস’ সম্মাননা। প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী ফিলাডেলফিয়ায় ‘বইমেলা২০২৫’ মতো একটি আয়োজন, যার সাথে তিনিও আয়োজকদের একজন ছিলেন। এবং ‘ফিলাডেলফিয়া’ নামের সাহিত্য পত্রিকাটি তিনি সম্পাদনা করেন। সায়েমের নানা বাড়ি হচ্ছে সিলেটের মামনফুর এলাকায়। নানার নাম সৈয়দ মোস্তকিন আলি বিষাদমুক্ত, ভ্রমণপ্রিয়, বন্ধুবৎসল। ফোন : +1 (929) 732-5421 ইমেল: ahmedsayem@gmail.com
এইরকম আরও পোস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
ad place