
ফরিদা পারভীনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘পরম সন্ধ্যা’র আজকের আয়োজন শেষ হলো। মানুষ যে কীভাবে মানুষকে আপন করে নেয়, তা ভেতরের দরজার আড়ালে না তাকালে ধরা দেয় না।
একটি প্রোগ্রাম দাঁড় করাতে তাঁরা যে নিষ্ঠা দেখিয়েছেন—রিহার্সেল, খাবার-দাবার, সময়ের আগেই উপস্থিত হওয়া, কাজ-কাম ফেলে এগিয়ে আসা—তাঁদের প্রতি হাজার সালাম জানিয়েও ঋণ শোধরানো যায় না। প্রণাম রইলো তাঁদের প্রতিটি প্রাণে।
সাদা পোশাক যেমন সহজে পরা যায়, তেমনি মনের পোশাকে নিষ্ঠা না নিলে তা সিদ্ধ হয় না। আজকের সন্ধ্যা প্রমাণ করেছে আমরা সেই পথেই চলেছি। পৃথিবী এখনো প্রতিশোধ আর রক্তারক্তির খেলায় মত্ত, কিন্তু কেউ মনের দোকান খুলতে চায় না। অস্ত্রের দোকানে লাভ আছে, সম্মানও আছে; অথচ হৃদয়ের বাজারে মেলে শান্তি, সেই দোকান অচল পড়ে থাকে।
জ্ঞানের বিনয়ই মানুষকে বড় করে, আর আমাদের এ পথেই এগোতে হবে—
অস্ত্রের ঝনঝন নয়, মনের নিঃশব্দ দরজা খুলে।
সেখানে আলো নিভে যায় না, শ্রদ্ধা শেষ হয় না,
সন্ধ্যা ফুরালেও থেকে যায় ভক্তির দীপ্তি।
আজ ছিল ফিলাডেলফিয়া পত্রিকার দ্বিতীয় আড্ডা। ফরিদা পারভীনের সম্মানে একটি সংখ্যা প্রকাশ হলো—যা সম্ভব হতো না যদি সবার হাত সমানভাবে এগিয়ে না আসত। ভক্তি রইলো সবার প্রতি।
কবি নাট্যকার বদরুজ্জামান আলমগীর ভাই কথার ফাঁকে তুলে আনলেন সক্রেটিসের সেই অসাধারণ উক্তি। সোফিস্টরা সবকিছু জানে বলে মনে করত; কিন্তু সক্রেটিস নিজেকে আলাদা করে বলেছিলেন—“ওরা জানে না যে তারা জানে না; আর আমি অন্তত জানি, আমি জানি না।”
এই জ্ঞানের বিনয়ই মানুষকে বড় করে, আর আমাদের এ পথেই এগোতে হবে—
অস্ত্রের ঝনঝন নয়, মনের নিঃশব্দ দরজা খুলে।
সেখানে আলো নিভে যায় না, শ্রদ্ধা শেষ হয় না,
সন্ধ্যা ফুরালেও থেকে যায় ভক্তির দীপ্তি।





জন্ম ১৯৭৮ সালের ৫ জানুয়ারি, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী শহর সিলেটে। তবে তাঁর বংশপরিচয়ের সূত্র টানলে ফিরে যেতে হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘আলী আমজাদের ঘড়ি’র কাছে-যার পারিবারিক রক্তধারা তাঁর শরীরেও বহমান। শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতিতে সিলেট যেমন একটি ভৌগোলিক নাম, তেমনি একটি সাংস্কৃতিক ও আবেগী পরিমণ্ডল। বর্তমানে তিনি পেশাগত কারণে সপরিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
তিনি বিষাদমুক্ত জীবনবোধে আস্থাশীল, ভ্রমণপ্রিয় এবং বন্ধুবৎসল মানুষ হিসেবে পরিচিত। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতায় সক্রিয় সায়েম একাধারে কবি, সম্পাদক, পুস্তকপ্রকাশক, স্থিরচিত্রগ্রাহক এবং স্বতঃপ্রণোদিত তথ্যচিত্রনির্মাতা। আবির্ভাবকাল অনুযায়ী তিনি একবিংশ শতকের প্রথম দশকের লেখকপ্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি- অনক্ষর ইশারার ঘোর (২০১৫), কয়েক পৃষ্ঠা ভোর (২০১৯) এবং রুদ্ধজনের রাগ ও সম্বিৎ (২০২৫)। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতার ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Layers of Dawn। প্রকাশিতব্য দুইটি কবিতার বই রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই বের করার প্রস্তুতি চলতেছে। একটি ‘কবিতার খাতায় আঁকা ফিুড়ং’ এবং ‘আব্বার আনন্দবাজার’ নামে।
তিনি সম্পাদনা করছেন সাহিত্যপত্র সূনৃত এবং ওয়েবম্যাগ রাশপ্রিন্ট।
ছোটকাগজ সম্পাদনার জন্য ২০১৩ সালে তিনি অর্জন করেন ‘সমুজ্জ্বল সুবাতাস’ সম্মাননা।
প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী ফিলাডেলফিয়ায় ‘বইমেলা২০২৫’ মতো একটি আয়োজন, যার সাথে তিনিও আয়োজকদের একজন ছিলেন। এবং ‘ফিলাডেলফিয়া’ নামের সাহিত্য পত্রিকাটি তিনি সম্পাদনা করেন।
সায়েমের নানা বাড়ি হচ্ছে সিলেটের মামনফুর এলাকায়। নানার নাম সৈয়দ মোস্তকিন আলি
বিষাদমুক্ত, ভ্রমণপ্রিয়, বন্ধুবৎসল। ফোন : +1 (929) 732-5421 ইমেল: ahmedsayem@gmail.com
