30 POSTS
বাংলাদেশের স্বাধীনতার বছরে জন্মগ্রহণ করেন। লেখালেখির শুরু নব্বইয়ের দশকে, ছোটকাগজকে কেন্দ্র করে। ছোটকাগজ ও ব্লগ—এই দুই মাধ্যমেই তিনি নিজের স্বর নির্মাণ করেছেন। প্রকাশনায় খুব সক্রিয় না থাকলেও গান শোনা, সিনেমা দেখা ও পাঠের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ক্রমাগত প্রস্তুত রেখেছেন নতুন লেখার সম্ভাবনার জন্য। অনেকগুলি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি থাকলেও তাঁর একটি মাত্র বই প্রকাশিত হয়েছে—বৃহৎ আখ্যাননির্ভর উপন্যাস “উল্টোরথের মানুষ”।
মূলত প্রবন্ধ তাঁর প্রিয় ক্ষেত্র হলেও কবিতা, গল্প ও আখ্যানের ভেতরেও তিনি বারবার ফিরে গেছেন। বিষয়বৈচিত্র্যের চেয়ে তাঁর লেখার প্রধান শক্তি হলো—একটি অনুসন্ধানী মন, যা মানুষের অস্তিত্বগত প্রশ্ন থেকে শুরু করে পরিবেশ, প্রাণীজগৎ ও জীবনের বহুমাত্রিক স্তরগুলোর দিকে অবিরাম অগ্রসর হয়। তাঁর লেখায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাপ নেই; বরং থাকে প্রশ্নের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক ধীর, গভীর ও আত্মমগ্ন বুদ্ধিবৃত্তিক ভ্রমণ। তাঁর এই চিন্তার পরিসর স্থানিক সীমানায় আবদ্ধ থাকে না; বরং বিশ্বমানবিক অভিজ্ঞতা ও দার্শনিক অন্বেষণের সঙ্গে সংলাপে প্রবেশ করে। এই অনুসন্ধিৎসা তাঁকে আমাদের সময়ের এক নীরব কিন্তু তীক্ষ্ণ বুদ্ধিজীবী কণ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত করে।
আজীবন ছোটকাগজে লিখে যাওয়া মিনহাজ মূলত এক অন্তর্মুখী সাধনার ভেতর দিয়ে তাঁর লেখাকে নির্মাণ করেছেন। সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, সংগীত ও চিত্রকলার প্রতি সমানভাবে আগ্রহী—এই বহুমাত্রিক মনন তাঁর ভাবনাকে দিয়েছে একটি স্বতন্ত্র ও আন্তঃশাস্ত্রীয় বিস্তার। তিনি কেবল বিষয় স্পর্শ করেন না, বরং বিষয়গুলোর মধ্যে সঞ্চরণ করেন—একটি থেকে অন্যটিতে, অভিজ্ঞতা থেকে চিন্তায়, আর চিন্তা থেকে আবার জীবনের বাস্তবতায় ফিরে আসেন।
একসময় তিনি নিয়মিত লিখেছেন গানপার ও রাশপ্রিন্ট ওয়েবজিনে। সিলেট থেকে প্রকাশিত ছোটকাগজ সূনৃত-এর বেশ কয়েকটি সংখ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী ছিলেন তিনি। বর্তমানে থার্ড লেন স্পেসের (https://thirdlanespace.com/) অন্যতম অবধায়ক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, যেখানে তাঁর চিন্তা ও লেখালেখি নতুন পাঠকমহলে পৌঁছাচ্ছে। নিবিষ্টতা, নীরবতা এবং দীর্ঘ মননশীল প্রস্তুতির ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা তাঁর এই লেখকসত্তা—সময়ের ভিড়ে আলাদা করে চিনে নেওয়ার মতো এক স্বতন্ত্র উপস্থিতি।