Homeকবিতাপ্রান্তরশনিবার । আহমদ সায়েম

শনিবার । আহমদ সায়েম

IMG_3037 copyশনিবার


আজ শনিবার তোমার ইচ্ছে মতো ঘৃণা জানাতে পার, হ্যাঁ হ্যাঁ অতিথিদের মুখ না দেখা গেলেও তোমার পা’য়ের শব্দ থেকে প্রতিটি দৃশ্য প্রচার করা হবে চ্যানেলে-চ্যানেলে, হ্যাঁ শনিবার আজ তা মিথ্যে নয়, পদচিহ্ন যে কোনো ভাষাতেই দিতে পার


ঘুমোতে যাওয়ার আগে জামার বোতামগুলো শরণে নিও, খুন হবার আগে ওগুলো দেখেশুনেই রাখতে হয় তাই বলছি, আজ শনিবার চুলে রাবার বাঁধতে গিয়ে পাথর রঙের স্বপ্নটাও বেঁধে দিও


আয়নায় মুখ দেখে দেখে তোমার অনিষ্টতা জানাও, তা হতে পারে শুধু মাত্র একটি বিকেলের জন্যে ছিলো, বা সন্ধ্যার পরে শাড়ির ভাঁজ খুলতে গিয়ে সারাটা শরীর ভিজে গেছে বৃষ্টিফোঁটায়, অথবা ভুল সময়ে বিস্তৃত ছিলো মেঘের বাক্স, তবু শনিবার আজ তাই যে কোনো নিঃশ্বাসের চিহ্ন বলতে পার যা নিয়ে ক্ষুধার্ত থাকো প্রতিদিন


জানালায় তোমার হাত দেখা না গেলেও বিড়ালছানাদের চোখদুটি স্পষ্ট ছিলো, প্রকাশিত ছিলো নীরবতা-নিঃশ্বাস আর অদৃশ্য করে রাখা তোমার নাকফুলের গন্ধ, শনিবার, তাই মোবাইল মেসেজে জানা গেলো জানালায় ছিলো সময়ের ভুল কয়েকটি চিহ্ন


ছেলেটির নেশা ছিলো দেশ ও মায়ের শরীর, তাই তাকে কৌশল নিতে হয় কোনো একটা শনিবার বা সান্ধ্যবৃষ্টিতে; মুখোশ নিতে হয় ভিন্ন ভিন্ন রকম,-ইসলাম শব্দটি ছিলো আরো অন্যরকম মন্ত্র


আনন্দের প্রথম রঙটি থাকত উইপোকাদের দীর্ঘ-দীর্ঘ ভ্রমণ, ওরা জানে স্বপ্নগুলো কতোটা বেঁকে গেছে, দৃষ্টি যে কতটা অ-ধ্রুব তা তার পায়ের চিহ্ন শব্দ ও রঙ থেকে প্রতিটা লহমা ছিলো তাদের মুখস্ত, ওরা জানে শনিবার ছিলো শেষ দৃষ্টি তাই বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার আগেই তাদের জলার্তি ঠোঁট আমার সীমানায় এঁকে দিত


তোমার অলক্ষ্যে নিঃশ্বাস নিয়ে দেখেছি আকাশ পৃথক ছিলো না কখনো, অথচ প্রকাশ্যে তোমার হাতধরে বসেছি অন্যদিনের প্রতি, পয়সা-কড়িতে কোনো রঙ ছিলো না সত্যি, আকাশসমান কাজের সকল প্রকাশনাই সমাপ্তি ঘটেছে তোমার পরম ছায়ায়, শনিবার ছিলো তবু অলক্ষ্যে নিঃশ্বাস নিয়েছি আর জেনেছি সূচিত হওয়া সকল নৃত্য তোমার মাঝে রাখা তাই হাঁটতে হাঁটতে পড়ে নিয়েছি একশোবার-রব্বি আন্নী মাগলুবুন ফানতাছির

আহমদ সায়েম
আহমদ সায়েমhttp://raashprint.net
জন্ম ১৯৭৮ সালের ৫ জানুয়ারি, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী শহর সিলেটে। তবে তাঁর বংশপরিচয়ের সূত্র টানলে ফিরে যেতে হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘আলী আমজাদের ঘড়ি’র কাছে-যার পারিবারিক রক্তধারা তাঁর শরীরেও বহমান। শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতিতে সিলেট যেমন একটি ভৌগোলিক নাম, তেমনি একটি সাংস্কৃতিক ও আবেগী পরিমণ্ডল। বর্তমানে তিনি পেশাগত কারণে সপরিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তিনি বিষাদমুক্ত জীবনবোধে আস্থাশীল, ভ্রমণপ্রিয় এবং বন্ধুবৎসল মানুষ হিসেবে পরিচিত। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতায় সক্রিয় সায়েম একাধারে কবি, সম্পাদক, পুস্তকপ্রকাশক, স্থিরচিত্রগ্রাহক এবং স্বতঃপ্রণোদিত তথ্যচিত্রনির্মাতা। আবির্ভাবকাল অনুযায়ী তিনি একবিংশ শতকের প্রথম দশকের লেখকপ্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি- অনক্ষর ইশারার ঘোর (২০১৫), কয়েক পৃষ্ঠা ভোর (২০১৯) এবং রুদ্ধজনের রাগ ও সম্বিৎ (২০২৫)। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতার ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Layers of Dawn। প্রকাশিতব্য দুইটি কবিতার বই রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই বের করার প্রস্তুতি চলতেছে। একটি ‘কবিতার খাতায় আঁকা ফিুড়ং’ এবং ‘আব্বার আনন্দবাজার’ নামে। তিনি সম্পাদনা করছেন সাহিত্যপত্র সূনৃত এবং ওয়েবম্যাগ রাশপ্রিন্ট। ছোটকাগজ সম্পাদনার জন্য ২০১৩ সালে তিনি অর্জন করেন ‘সমুজ্জ্বল সুবাতাস’ সম্মাননা। প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী ফিলাডেলফিয়ায় ‘বইমেলা২০২৫’ মতো একটি আয়োজন, যার সাথে তিনিও আয়োজকদের একজন ছিলেন। এবং ‘ফিলাডেলফিয়া’ নামের সাহিত্য পত্রিকাটি তিনি সম্পাদনা করেন। সায়েমের নানা বাড়ি হচ্ছে সিলেটের মামনফুর এলাকায়। নানার নাম সৈয়দ মোস্তকিন আলি বিষাদমুক্ত, ভ্রমণপ্রিয়, বন্ধুবৎসল। ফোন : +1 (929) 732-5421 ইমেল: ahmedsayem@gmail.com
এইরকম আরও পোস্ট

1 COMMENT

Comments are closed.

- Advertisment -
ad place