Sunday, February 22, 2026
Homeসবিশেষকবিতাবোবা হাওয়ার মোচড় । বদরুজ্জামান আলমগীর

বোবা হাওয়ার মোচড় । বদরুজ্জামান আলমগীর

কথাদের নৈঃশব্দ্য

আমার মেয়ের নাম মিথ— অন্তর্গত জায়মান মিথ
সেদিন সন্ধ্যাবেলায় ওয়াটস্যাপে কথা বলছিল
বাংলাদেশে ওর স্মার্ট বন্ধু কাজিনদের সাথে।

ওরা কথা বলে যত তার থেকে হাসাহাসি করে বেশি।
কাজিনরাই ওকে ট্যাক্সট করে ফোন দেয় দল বেঁধে
ওরা ম্যাগডোনাল্ডসে বার্গার খেতে এসেছে
এমেরিকান ইয়ামি চিজ বার্গার উইথ ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ।

মিথ বলে বাজিতপুরি এক্সেন্টে ভাঙা ভাঙা বাংলায়,
কাজিনরা বলে এমেরিকান এক্সেন্টে ইংরেজি ঠেকে।
ওরা জিজ্ঞেস করে, ওয়াচ আর ইউ গনা ডু নাউ?
মিথ বলে, মা লাউ দিয়া তরকারি রান্ধে কিচেনে
একটু পরেই হইয়া যাইচে— কি যে মজা, এখন খাবো।

ওরা নিউইয়র্কে ফিলাডেলফিয়ায় মাকড়জালির রঙ
মিথ সরিষাপুর এলিমেন্টারি ইশকুলে বৌ চি খেলে।

তাদের মাঝখানে কথার তোড় নীরব ধাঁধায় বাড়ে।

মিনার

আগের দিনে মানুষের পিঠে
নৈঃশব্দ্য জমিয়ে রাখার দরকারে
উটের পিঠের মত কুঁজ ছিল।

বলা চলে, প্রায় বেবাক মানুষেরই
ছিল এমন নির্বাক নিষ্ঠাবান টিলা।
ধানের ক্ষেতে কীট বিনাশকারী বিষ
ছিটানোর স্প্রে মেশিন পিঠের উপর
এমন ছিল, বলাই যায় বোধকরি।

মানুষের মতিগতি স্বভাবের সাথে
উটের একটা মিল দেখি রয়েইছে।
অনাহারই হয়ে ওঠে উটের আহার,
তৃষ্ণা নিজেই তার জল ও পিপাসা,
মানুষ দিনে দিনে হয়ে উঠছে মিনার।

কোথা পাবো জল কাটার করাতকল
হাতগুলো সব জমে জমে হয়ে গ্যাছে
সাইবেরিয়ান শীতে শীর্ণ গাছের নলি
আলিঙ্গনে ফেরে না রোদের সমিতি।

এই নদীটি, রোয়াদর বিলের কলিটি
হামেশা বলে যাচ্ছে কথার চাপাতি।
দুনিয়াজোড়া জমে কথাদের গ্র‍্যাফিতি,
কথার তোড়জোড়, পাদটীকা সবটুকু
বলার সুনামিতে তুমিই মোড়ানো ফাঁপা।

তোমার কথা ও ডিসক্লেইমারের মুখে
আমি কুঁজো হয়ে আছি চণ্ডগতি টায়ার
মানুষ পিষে যাচ্ছে, আমি জাগি মিনার।

পুণ্য নামে

এখানে শহর— ঘুমিয়ে থাকা কল্লোল, নকশিকাঁথা
আগের মতই শহর
ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটার পর কী হয়,
এই শহর কেমন করে হাজারে বিজার কবর খোঁড়ে
কেমন করে লাফ দেয় যুদ্ধের ঘোড়া?

সেদিন রিক্সাওয়ালা মামা ভাড়া নেয় না।
বেলুনওয়ালা মেয়েটি আকাশে ঝালর ওড়ায়।
ফুটপাথে দূর দিগন্ত পানে চাওয়া হকার
হোমলেস ছেলেটাকে জামা পরিয়ে দেয়।
স্ট্রিট গার্ল ভাবে, সে কী কবরী হয়ে গ্যাছে আজ—
তার হাসি এতো সুন্দর কেন হয়?

ঢাকা এক অতীত ও ভবিতব্যের লোকালয়, কার্নিভাল।
ঢাকা এমন এক নাম যার বর্তমান নাই
রক্ত ও জলের তোড়ে রিফু করা মানচিত্র কাল!
কেবলই সে শনপাপড়ি, অনাঘ্রাত কবরের ঘ্রাণ!

কী কী আছে ওখানে স্বনামে ও স্তব্ধতায় বহমান?
অন্ধ লোকগুলোর সামনে,
মাঠভর্তি হুইল চেয়ারের সমুখে কী কী আছে-
সব আছে, কিন্তু সবজি নাই যে, নাই অশ্বখুর!
পুরাণের পাতা থেকে উঠে আসে দিব্যি—
ওগো হ্যাঁগো হাসি, মাকড়জালি, মজা মজায় লিপ্ত
হাওয়াই মিঠাই, শনপাপড়ি নিত্যই আছে।

ঢাকা শহরের খানাখন্দ কই— কই আবুশামা?
ঢালুর দিকে আছে সে— নাই তো!
অন্ধপাখিরা গোত্তা খায়, ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে
ওড়ে রিক্সাওয়ালা মামা!

বদরুজ্জামান আলমগীর
বদরুজ্জামান আলমগীর
কবি, নাট্যকার, অনুবাদক। কবিতা : পিছুটানে টলটলায়মান হাওয়াগুলির ভিতরনদীও পাশ ফেরে যদিবা হংসী বলোদূরত্বের সুফিয়ানা। প্যারাবল : হৃদপেয়ারার সুবাস। ভাষান্তরিত কবিতা : ঢেউগুলো যমজ বোন। জালালউদ্দিন রুমির কবিতা, মসনবি : মোরাকাবা ও জলসংগ্রহ। ছিন্নগদ্য : সঙ্গে প্রাণের খেলা। নাটক : নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসেপুণ্যাহ। আবের পাঙখা লৈয়া। জুজুবুড়ি। চন্দ্রপুরাণ। পানিবালা। বাঘ। পরীগাঁও। প্রত্ন প্রতিমা। ইলেকশন বাজারজাতকরণ কোম্পানি লিমিটেড। এক যে আছেন দুই হুজুর। পিঁয়াজ কাটার ইতিহাস। ডুফি কীর্তন। নুনমধু টিপসইপানিফল সংবেদ।।
এইরকম আরও পোস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
ad place