ত্রিমাত্রিক বোধ
ডালে বসে আর উড়তে উড়তে পাখিসব দেখেছিল
কাল রাতে কীভাবে নেমেছিল রোদ
পাতায় পাতায় জমেছিল জ্বর
কীভাবে খুব নিঃশব্দে থার্মোমিটারে উঠেছিল পারদ
তখন তুমি হেঁটে যাচ্ছো স্বপ্নের মধ্যে বাস্তব হয়ে
কী এক ঘোরে তখন রোদ্দুর আবৃত্তি করছে
জরাথস্ত্রু কিংবা জিব্রান কাহলিল
আবৃত্তি শুনে মেঘ থেকে নেমে এল ভালোবাসা
আমার মননে তখন তুমি সন্তর্পণে হচ্ছো নাজিল।
তোমার উপস্থিতি শুকাল রোদের অশ্রু
থামিয়ে দিল ঊর্ধ্বমুখী পারদ, ছাড়ল জ্বর
আড়ালে লুকিয়ে মেঘ ফিরিয়ে নিল অবরোধ
আমি তোমার জন্য গড়ে তুললাম ত্রিমাত্রিক বোধ
একটুকু ছোঁয়ায় ফল্গু নদী বয়ে গেল নিরুত্তর।
যদি জেনে যাই
দরজাটা খোলাই ছিল। ইচ্ছা করলেই আমি
ভেতরে যেতে পারতাম। কিন্তু যাইনি।
এক আলোকবর্ষ দাঁড়িয়ে আছি দরজার বাইরে
কেউ আমাকে ভেতরে যেতে বারণ করেনি।
কেউ প্রশ্ন করেনি কেন দাঁড়িয়ে আছি
দরজা তো খোলাই ছিল।
ভেতরে যাইনি
কারণ ভেতরে গেলে সব বিস্ময় চলে যাবে।
ভেতরে কি চার হাজার বছরের প্রাচীন মমি?
মহেঞ্জোদারোর বিধ্বস্ত নগরীর শেষ চিহ্ন?
কাঠের ঘোড়ার পেটে উর্বশী হেলেন?
আমি জানতে চাইনা মন খারাপের প্রযুক্তি।
তবে সে কারণে নয় –
ভেতরে গেলেই যদি জেনে যাই, মানুষ কেন কাঁদে
মানুষ আসলে কতটা মানুষ
যদি জেনে যাই, অন্ধকারের ব্যাকরণ
এবং দ্বৈত-চেহারার স্বরূপ।
আরও ক’টা দিন কবিতা
ভেবেছিলাম সবকিছুই ঠিকঠাক মত গোছানো আছে
আমি চলে গেলে কারো কোনো অসুবিধা হবেনা
কেবল কবিতাগুলো দুই মলাটের ভেতর থেকে আমাকে
ডেকে ডেকে না পেয়ে কাঁদবে।
তোমাকে না জানিয়েই চলে যাচ্ছি
অথচ তুমি জানোনা আমার ব্যাঙ্ক একাউন্টের পিন
সিন্দুকের প্যাসওয়ার্ড, কোথায় লকারের চাবি,
তোমাকে জানানো হয়নি শেষ চিঠিটা রাখা আছে
গীতবিতানের প্রেম পর্বের শুরুতেই
না, প্রেমপত্র নয়,
সেখানে লেখা আছে আমার মরণোত্তর দেহ,
চোখ বা হৃদয়দানের কথা।
ভেবেছিলাম নদী দেখতে দেখতে চলে যাব
বাতাস কি আমাকে ভাসিয়ে নেবে উজানে?
চলে যাওয়ার সময় মনে হল তুমি তো সিকিউরিটি কোড জানোনা
শুতে যাওয়ার আগে কে চেক করবে দ্বিতীয়বার দরজা জানালা?
চলে যাওয়ার আগে বলে যাওয়ার সাহস হল না
আরো কটা দিন কবিতা লিখব, পতিত বৃষ্টিতে দুজনে ভিজব
আর আমার কবিতা শুনব তোমার মেঘকন্ঠে।
আহা, আমার বুকের মত সংবেদি কবিতা।
আমার কবিতাই আমাকে ফিরিয়ে
আনলো তোমার প্রাণ-অন্ধ ভালোবাসার মরীচিকায়।

কথাসাহিত্যিক, কবি ও শিক্ষক। জন্ম ৯ মার্চ, পিরোজপুর জেলায়। শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের পুরো সময় কেটেছে পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করার পরে পেশা হিসেবে বেছে নেন ক্রীড়া সাংবাদিকতার মতো নারীদের জন্য অপ্রচলিত এক পেশা। বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার নারী ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়া সম্পাদক তিনি। কাজ করেছেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক মানবজমিন ও সাপ্তাহিক ক্রীড়ালোকে। গল্প, কবিতা ও উপন্যাস মিলে তার মোটগ্রন্থের সংখ্যা ১৭টি। বসবাস করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ড সিটির একটি পাবলিক স্কুলের শিক্ষক।
