আমি
অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণত গার্হস্থ্য, ঘরের
গেরস্থালি চোখ, ঘরোয়া হৃদয়, ভেতো ভাবনা ও ভাব
উপমা ও অলঙ্কার তাবৎ কুনোব্যাঙের, কুয়োর
কুয়োর মুখেই শিসের ডগায় সুর-খেলানো শখ
এটুকখানিই রেয়াজ আমার, যা-কিছু আমার সংগীতসাধনা
বাদবাকি সব মনোযোগ যূথ-উপগত টিকটিকিদেহ ঘিরে
বেশি-থেকে-বেশি জানালাজগতের জামগাছজরিপ
ফের ঘরকুনো, ফের গার্হস্থ্য, ব্যাঙ-বিছা-কীট-কুটো
কিন্তু আমারও রয়েছে শোনো সমুদ্রাভিলাষ
প্রিয় প্রৌঢ়
ফুরলো কখন বেলা ববিতাবর্ণের
কখন ফুরলো দিন রোজিনারঙিন
ওহে বিনোদবিহারী ভোলাভালা খোকাবাবু
ফুরলো তোমার সন্ধ্যাসমূহ সুচিত্রাসুস্মিত
সুনিপুণ সংসার
নিঃশেষ সকল শান্তি পুলওভারের শীত
ওম নমঃ অঙ্গ-উচাটন টানটান মেরিলিন-উড্ডয়ন
দিয়েছে উড়াল কোথা উষ্ণ বসন্তবাদিকা
জেঁকে এসে জমকালো বসেছে বয়স
মর্মরপ্রাসাদ ঘিরেছে সময়শ্যাওলায়
সমাপ্তিসঙ্কেতে ত্রাহি-ত্রাহি তিতিরপরান
বিনোদবিহারী ভোলাভালা খোকাবাবু
এবার বোধ’য় বসা যায় থির করতলগত তাস গোটানোর কাজে
গ্রামগীতিকা
হাতের আলস্য-হেতু হয়নি ফলন
নতুবা ক্ষেত্র ছিল পুরোদম উদগ্রীব
আর মেঘেও ছিল বরিষনপ্রস্তুতি
অপেক্ষা কেবল দাঁড়াখানি অল্প নুয়ানোর
উবু ঝুঁকে রুয়ে দেয়া রতি-রোরুদ্য ক্ষেতে—
বীজ, আদি ও অকৃত্রিম, ফলোৎপাদী
হাতের আলস্য-হেতু হয়নি আগাছা উপড়ানো
ফলে আজি লাঞ্ছনা এই—মুথাঘাসে মেতে-ওঠা মাঠ, মন্দির
কালক্রমে মাটিতেও এসে করে অলসতা ভর
ধ্বনিজীবী
দাঁতে ধরে আছি ধ্বনি, দুধ ও ধুতুরা
কেবল গলায় আজো ভালোমতো ফুটছে না স্বর
মন্দ্র এই মধ্যনিশীথেও
অন্যের অঙ্গদে চক্ষু ফেলে রেখে দেখি
খুব পার্বণপ্রস্তুতি, সাজ-সাজ প্রতিমাপ্রতীতি
মুখে ও মুকুরে মৌন ছিপবাহকের ধ্যান
তাতে ধৃত সুখ সাতিশয়, সৌধ-উঁচা সাধ
নিম্ন-স্ফুটনাঙ্কে আমি জমে-ওঠা জলরূপভেদ
বেশ-বদলে-আসা শত আরশোলার দেশে
খামাখা দেহে নিতে চাইছি এই পাখিপরিচ্ছদ
বরফজন্ম ভাঙাতে পারে কোথায় সেই গিরিগাহের তীব্র
আগ্নেয় স্রোত?
বরফে বরফে আমি ভীত মিসমার
অন্তরে আগলে রেখে স্ফূর্ত ফুজিয়ামা
চষে ফিরি শীতে-আর্ত সাইবেরিয়া শহর, একা—
বিবিক্তিবিধুর
পাখা পুড়ে যাবে তবু
স্বেচ্ছা ও সজ্ঞানে কেন্দ্র-অভিমুখে এই ইকারুস-উড্ডয়ন
থিংস ফল অ্যাপার্ট
কোথাও কেউ কাঁদছে, গূঢ় তার কান্নার ধ্বনি
বাতাস ভেদ করে এসে ঢুকে পড়ছে সরাসরি সান্ধ্যাহ্নিকে
বৃষ্টিভারানত গাছে গাছে রতি ও রাত্রিজনিত বিস্রস্ততা
পুড়ছে পাখি কোথাও, ওই তার পাখনা-দগ্ধানো ঘ্রাণ
ভারী হয়ে বসে আছে বনে, দরবেশ-দহলিজে
আর সিংহভাগ মুখে বার্বিকিউ ভক্ষণের অগ্রিম উদ্গার
কোথাও কিছু ঝরছে, হয়তো পাতা বুড়োটে বটবৃক্ষটির
তার ঝরনশব্দের সঙ্গে সমুত্থিত শোক ও সন্তাপরাশি
বধির বানিয়ে যায় বর্ণাবৃত বাড়িখানি বিকেলবেলার
কোথাও পড়ছে কিছু, একের-পর-এক পতনচিত্রমালা
পতনভারে পর্যুদস্ত প্রতিকারাতীত ভীত ভৌগোলিকী—
চলেছি রচে রোরুদ্যমানা কমলালেবুর রচনাসম্ভার
কবি
সিলেট, বাংলাদেশ।
