মানুষের কবিতা
মানুষ দেখে আকাশ— খোলা দিগন্ত— নীল,
মানুষেরই বুকের ভিতর জমে ধুলার ঝিল!
মানুষ জাগে পাখপাখালির ডাকে—
কিন্তু পাখি হতে পারে না মানুষ।
মানুষ শোনে শেকল-পরা মানুষের হাঁক।
মানুষও উড়তে চায়—
অতীত ভুলে গাইতে চায় ভোরের গান,
কিন্তু জেগে ওঠে রুটিন-ঘড়ি
আর ছেঁড়া খামে পেনশনের টান।
পাখি হতে পারে না মানুষ—
কিন্তু পাখির জন্য খাঁচা বানায়;
মানুষেরই বুকের ভিতর থেকে
হিমকুসুম আবেগ পালায়।
ভোটের কবিতা
ভোট আসে—
দেয়ালে আঁকে চওড়া হাসির ছায়াপট,
চকমকে প্রতিশ্রুতি গিলে নেয় পুরনো দাগ।
আমরা দেখি—
একই হাসি ছাপা হয় বারবার
শুধু মুখ বদলায়,
বাকিটা থাকে একই আলগা রঙে আঁকা।
বুকের ভিতর জমে বিক্ষোভ—
না-দেখা আগ্নেয়গিরির মতো,
জমে, পাথর হয়,ফোটে না শব্দে।
নীরবতা ভোট দেয়—
আঙুলে নীল কালি, মুখে স্থবির আস্থা।
আর আমরা বিশ্বাস করি—
পরিবর্তন আসবে, একদিন,
যেন ঘড়ির কাঁটা হঠাৎ বিপরীত দিকে ঘুরবে।
আমরা কেবল নাগরিক
আমরা রাষ্ট্রের নাগরিক—
তবু শহরের মানচিত্রে নেই আমাদের শিরা-উপশিরা।
চেনে না ধুলোমাখা রিকশাওয়ালার হাঁপধরা নিশ্বাস,
চেনে না স্কুলফেরত ক্লান্ত মেয়েটার ভিজে চুল।
তবু আমরা দাঁড়িয়ে থাকি—
ভাঙা মঞ্চের সামনে, পতাকা-বৃক্ষের নিচে
যেখানে প্রতিটি রং এখন কুয়াশার ভিতর হারিয়ে যায়।
রাস্তায় রক্ত পড়ে থাকে—
কুকুরও দুঃখে ফিরিয়ে নেয় মুখ
রক্ত এখন খুব সাধারণ তরল!
নগরের নীলদাগ
না-ঘুমোনো চোখে
প্লাস্টিকের ঘুম বুকে নিয়ে
নগরী জেগে ওঠে।
রাস্তায় ঢেউ খেলে যায়—
মানুষ ও যানবাহনের জোয়ার,
হর্নের শব্দে ধাক্কা খায় ক্লান্তি।
রিকশা আর রাগে ফুঁসে ওঠা রিকশাওয়ালা,
জ্যামে আটকে থাকে শহরের হৃৎপিণ্ড।
ঘড়ি বলে— ছুটতে হবে।
কিন্তু সময় কি থেমে বসে কখনও?
নাকি অফিসের চেয়ারে
সে নিজেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমোয়?
আবার সন্ধে নামে
রাত গভীর হয়,
কংক্রিটের বুক নিঃশব্দে কাঁদে,
কিন্তু শোনে না কেউ।
যুদ্ধ
‘যুদ্ধ’ শব্দটিকে সহ্য করি না আমি।
এই একটি শব্দের ভিতরে লুকানো
কত-যে মানুষের কান্না।
এই একটি শব্দ নীল আকাশে ফোটায়
হিংসার কালো রেখা;
আর কত পাখি ফেরে না নীড়ে।
এই একটি শব্দে—
মানুষ ছিন্ন করে মানুষকে
মুক্তির নামে চালায় মৃত্যুর মিছিল
রাষ্ট্রগীত বাজায় পাথরের ভাষায়।
এই একটি শব্দে
কত জীবন ঢাকা পড়ে কাদায়।

জন্ম সিলেট জেলাধীন বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নে, মুজরাইপাড়ায়। পিতা ইছবর আলী, মাতা কদরুন নেছা।
কবিতা,ছড়া ও প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখেন। আঞ্চলিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে কাজ করছেন। এযাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থ—’অনুভবের দিনলিপি’ (২০১৭), ‘প্রবাসে বিশ্বনাথের কয়েকজন’ (২০১৮), ‘বিশ্বনাথের লেখক-পরিচয়’ (২০১৯,২০২৩), ‘পদ্যসমীরণ’ (২০২০), বিশ্বনাথের কৃতীজন’ (২০২১), স্বপ্ন-ব্যথার একটু কথা (২০২৩), ৯ লেখকের প্রতিকৃতি (২০২৫), স্মৃতির আয়ুষ্কাল (২০২৫)। এছাড়া সম্পাদনা করেছেন— ‘করোনাকালের কথা’ (২০২২), সিলেটপ্লাবন ২০২২ (২০২২), মকদ্দস আলম উদাসী স্মরণ পুস্তক (২০২৩), দুর্বিন শাহ স্মরণপুস্তক (২০২৫), ফকির সমছুল স্মরণপুস্তক ( ২০২৫), খোয়াজ মিয়া স্মরণপুস্তক (২০২৫)। জিন্দাবাজার ( শিল্প-সাহিত্যের কাগজ)।
