ভোকাট্টা ঘুড়ি
ঘন হয়ে আসে অভ্রভেদী অন্ধকার
খুবলে খেয়ে ফেলে আকাশ জুড়ে থাকা
আলোর যৌবন
নতমুখো চোখজোড়া তোমার
শতাব্দীর অনুবাদহীন জলজ বর্ণমালা
বোবা হাহাকার ফুটে থাকে হা করা মুখে।
এখানে এখন প্রেমে জাগ্রত মনস্তাপ
লিটমাস চুষে নেয় সমুদয় সময় সঞ্চয়
হৃদপিণ্ডের স্পন্দন
প্রেমিক প্রেমিকার সকল মুখর ভাষা
গ্রন্থিহীন হাওয়ার রাজ্যে বেওয়ারিশ প্রজা
অভিভাবক বিহীন রাষ্ট্র ভোকাট্টা ঘুড়ি।
চিয়ার্স
জলপাইগুলো রক্তাভ হয়ে গেছে
শিশুদের রক্ত খেয়ে তারা এখন
একেবারে টসটসে, টইটম্বুর
এগুলো নিংড়ে মদিরা বানানো হবে
বোতলজাত মদিরা যাবে সভ্য দুনিয়ায়
গ্লাসভর্তি জীবনের জারকরসে
বিকলাঙ্গ বিবেকেরা জলসাঘরে নাচবে
আনন্দের ফোয়ারা তুলবে আর
ফিলিস্তিনের মুক্তি কামনায়
মানবতার ঢেকুর তুলবে, চিয়ার্স!
জলপাই তেলে আবার রান্না হবে
সুস্বাদু মাংস
সেই মাংসের সাথে ভাসবে ফিলিস্তিন
শিশুদের ঝাঝরা শরীর- হাত পা
স্বপ্ন নিভে যাওয়া মরা চোখ
চররা গুলিতে ছিটকে যাওয়া মগজ
সেদ্ধ হবে গরু ছাগল শুয়োরের মাংস
আর বর্বরতার শিকার শিশুদের জীবন
ভোজনবিলাসী গোগ্রাসে গিলে নেবে
আহা, বড়োই সুস্বাদু ফিলিস্তিনি মাংস!
ছ্যাঁ! ছ্যাঁ!
তোমার জিভ যদি কথা বলতে ছটফট করে
জিভটা কেটে ফেলা হবে-এটি মধ্যযুগের প্রথা
তোমার হাত যদি খুব বেশি প্রতিবাদমুখর হয়
রিমান্ডে নয়তো প্রকাশ্যে কেটে নেবে আঙুল
. এটা সিভিল গণতান্ত্রিকতা।
পরাজিত জেনেও তোমাকে জয়ধ্বনি দিতে হবে
নয়তো তোমার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি ঢোকাবে পোঁদে
চামড়াটা গন্ডারের হলেই সয়ে যাবে দু’চার ঘা
তারপরও দেশ জনগণ শোষণ যদি হয় বড়ো
. চামড়া ছিলে শুকাবে ঠাঠা রোদে।
এমনই বিধিবদ্ধ নাগরিক অধিকার আজকাল
গণতন্ত্রের মুখোশে ধুমসে বিকোচ্ছে স্বৈরাচার
বিশ্বজুড়েই ফোপরদালালি হয়ে উঠেছে রমরমা
বুদ্ধিজীবীরা বিকোচ্ছে টনে টনে শোষণের বড়ি
. ছ্যাঁ, ছ্যাঁ! বাংলায়ও চলছে এই ভ্রষ্টাচার!
