আমার ভাষা
ঠোঁটের আগে যে দীর্ঘশ্বাস, যে শব্দ, যে অনুভূতি
কাজ করে— তারও একটি নাম দেওয়া যায়।
মায়ের ডাকের মতো, মাটির মতোই গভীর তার টান—
সেই টান আর অনুভূতির নামই ভাষা।
যে মাটি আর মানুষের ধুলোর জন্য আমার কান্না
আমার ভোর, আমার পাখি, নদী— আমার বর্ণমালা
আমার দীর্ঘশ্বাসে যে শব্দ গোপনে জেগে থাকে
তারই নাম ‘ভাষা’।
আমার বাংলা ভাষা—
এই ‘আমি’টাও আমার ভাষা
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভেতর-বাহির
আমরা দুজনই তখন পৃথিবীর বাইরে।
তিনি আমায় দেখে জানতে চাইলেন—
‘ভেতরে কে?’
সরল বাক্যে জানালাম, ‘আমি।’
তিনি এগিয়ে গেলেন অদেখার দিকে,
আমি দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলাম…
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অপাত্রে স্বপ্ন
স্বপ্ন আর কবিতা; —যার-তার কাছে পেশ করা যাবে না
সব কান শুনতে জানে না
সব চোখেও আলো বহন করতে পারে না
সে অনুবাদ করবে, তার ক্ষুধা আর ভয়ের ভাষায়—
তুমি তা শুনে ভুলে যাবে স্বপ্ন দেখার সাহস
আর কবিতা— কোনো ফল নয়, পেড়ে খাওয়ার
স্বপ্ন কোনো হিসাব নয়, শেষ বিকেলের খাতায়।
তাই স্বপ্ন, কবিতা দুই তরিকার এক সুতার মালা
যে মালায় ধরা পড়ে আলো ছায়ার দুপুর…
—১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নীরবতার ব্যাকরণ
সময় দৈনন্দিন জীবনের নীরবতাকে যে প্রশ্রয়ে এগিয়ে দেয়—তা মুহূর্তের হিসাবে মেলে না, ঘড়ি তার সাক্ষী নয়, ক্যালেন্ডারও না
ধর্ম, শিল্প, দর্শন কিংবা ইতিহাস— সবাই মানুষের স্বাধীনতার কথা বলে; কিন্তু মানুষই ভুল ছন্দে বাঁধে নিজের পা, ভুল গন্ধে চিনে নেয় আপন ঘর, যত্ন করে অপ্রাপ্ত সম্পর্কের শুকনো পাতা, আর জ্যান্ত সম্পর্কগুলোকে ফেলে রাখে বারান্দায়
যার গন্ধ সে চেনে, তার দাড়ি-কমা সব যতি চিহ্ন পর্যন্ত মুখস্থ— তবু নীরবতার ব্যাকরণ শেখে না কখনও; শব্দের পাশে বসে থাকে, কিন্তু নীরবতার পাশে বসে না, সম্মান দেয় না, একসাথে বসে চা খাওয়ার ছোট্ট মুহূর্তকে— যেখানে কোনো দর্শন নেই, কোনো মতবাদ নেই, শুধু দুটি মানুষের শ্বাসের সমান্তরালতা
আমরা ইতিহাস লিখি উচ্চারণে, কিন্তু ভালোবাসা লেখা হয় বিরতিতে, আমরা স্বাধীনতার কথা বলি জোরে, কিন্তু স্বাধীন হতে ভয় পাই; সময় তাই রায় দেয় না— শুধু আয়না ধরে, আমরা নিজেদেরই দেখি, ভুল ছন্দে নাচতে নাচতে; ঠিক মানবিকতার সামনে এসে থেমে যাই…
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফিলাডেলফিয়া।

জন্ম ১৯৭৮ সালের ৫ জানুয়ারি, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী শহর সিলেটে। তবে তাঁর বংশপরিচয়ের সূত্র টানলে ফিরে যেতে হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘আলী আমজাদের ঘড়ি’র কাছে-যার পারিবারিক রক্তধারা তাঁর শরীরেও বহমান। শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতিতে সিলেট যেমন একটি ভৌগোলিক নাম, তেমনি একটি সাংস্কৃতিক ও আবেগী পরিমণ্ডল। বর্তমানে তিনি পেশাগত কারণে সপরিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
তিনি বিষাদমুক্ত জীবনবোধে আস্থাশীল, ভ্রমণপ্রিয় এবং বন্ধুবৎসল মানুষ হিসেবে পরিচিত। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতায় সক্রিয় সায়েম একাধারে কবি, সম্পাদক, পুস্তকপ্রকাশক, স্থিরচিত্রগ্রাহক এবং স্বতঃপ্রণোদিত তথ্যচিত্রনির্মাতা। আবির্ভাবকাল অনুযায়ী তিনি একবিংশ শতকের প্রথম দশকের লেখকপ্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি- অনক্ষর ইশারার ঘোর (২০১৫), কয়েক পৃষ্ঠা ভোর (২০১৯) এবং রুদ্ধজনের রাগ ও সম্বিৎ (২০২৫)। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতার ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Layers of Dawn। প্রকাশিতব্য দুইটি কবিতার বই রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই বের করার প্রস্তুতি চলতেছে। একটি ‘কবিতার খাতায় আঁকা ফিুড়ং’ এবং ‘আব্বার আনন্দবাজার’ নামে।
তিনি সম্পাদনা করছেন সাহিত্যপত্র সূনৃত এবং ওয়েবম্যাগ রাশপ্রিন্ট।
ছোটকাগজ সম্পাদনার জন্য ২০১৩ সালে তিনি অর্জন করেন ‘সমুজ্জ্বল সুবাতাস’ সম্মাননা।
প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী ফিলাডেলফিয়ায় ‘বইমেলা২০২৫’ মতো একটি আয়োজন, যার সাথে তিনিও আয়োজকদের একজন ছিলেন। এবং ‘ফিলাডেলফিয়া’ নামের সাহিত্য পত্রিকাটি তিনি সম্পাদনা করেন।
সায়েমের নানা বাড়ি হচ্ছে সিলেটের মামনফুর এলাকায়। নানার নাম সৈয়দ মোস্তকিন আলি
বিষাদমুক্ত, ভ্রমণপ্রিয়, বন্ধুবৎসল। ফোন : +1 (929) 732-5421 ইমেল: ahmedsayem@gmail.com
