মাঝে মাঝে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করি কেনো লিখি?কজন পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারি?জীবদ্দশায় উপভোগ্য জনপ্রিয়তা নেই, মৃত্যুর পর মূল্যায়ন নিশ্চিত নয়।তবু কেনো লিখি! আবদ্ধ কূয়োয়
নিজেকে খুঁড়ে খুঁড়ে পৌঁছে যাই বিশ্বের মহৎ লেখকদের কাছে।ইতালো কালভিনো যখন বলেন, নিজেকে মোকাবেলা করতে হবে,তা করতে গিয়ে এমন কিছু খুঁজে বের করতে হবে যা একেবারে নতুন,অভিনব”-ক্লান্ত হবার অবকাশ আমার আড়মোড়া ভাঙে।
কিংবা গুন্টার গ্রাস যখন বলেন, লেখায় আসলে কী হয়,ক্ষুদ্র অংশ মিলে একটি সমগ্র তৈরি হয় ঠিক যেভাবে পাথর খোদাই করতে করতে পূর্ণতা পায় একটি সম্পূর্ণ ভাস্কর্য” আমি ভীষণ ভাবে আবিষ্কার করি লেখক জীবনের অপূর্ণতা,এক সমগ্রের সন্ধানে আমার অসম্পূর্ণ, অতৃপ্ত যাত্রা এই লেখা,লিখতে থাকা। অর্থ নয়, বিত্ত নয়,এক বিপন্ন বিস্ময় তাড়িত ভুবনে ঘুরপাক।
এলিস মুনরো, সালমান রুশদী, ঝুম্পা লাহিড়ী, ইতালো কালভিনো,ওরমান পামুক, কাজুও ইশিগুড়ো প্রমুখ লেখকদের লেখালেখির ভাঁজে ভাঁজে আলো ফেলে প্যারিস রিভিউ উন্মোচিত করেছেন তাঁদের অন্তর্জগত। তার অনেক কয়টি বাংলায় অনুবাদ করেছেন কথাশিল্পী এমদাদ রহমান।
প্রকাশ করেছে জলধি, প্রচ্ছদ করেছেন তাইফ আদনান।
হতে চাওয়া,হয়ে উঠা,কিংবা খ্যাতির শিখরে থাকা লেখকদের অবশ্য পাঠ্য এক বই “নৈঃশব্দের সংলাপ”। পাওয়া যাচ্ছে রকমারি, নির্বাচিত,কবিতা ক্যাফে সহ অনলাইন অফলাইনের সব বই বিক্রয় কেন্দ্রে।

রুমা মোদক (জন্মঃ ৭ মে ১৯৭০) একজন কথাসাহিত্যিক, থিয়েটার কর্মী এবং নাট্যকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১১ টি। তারমধ্যে ১ টি কাব্যগ্রন্থ, ৬ টি ছোটগল্প সংকলন, ৩ টি নাট্যসংকলন ও ১ টি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গ্রন্থ।
তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ থিয়েটার কর্মী ও নাট্যকার। তাঁর রচিত মঞ্চায়িত নাটকের সংখ্যা প্রায় ২০ টি। নাট্যকার। বাংলাদেশের কথা সাহিত্যের এক ভিন্ন স্বর তিনি। ধর্ম ও জীবনের মিথষ্ক্রিয়ায় বাংলাদেশের মানুষের জীবনে যে অমোঘ বিপন্নতা আমরা দেখি সেই ছবিটি তার গল্পে আঁকতে চান তিনি, যেন উত্তরকালের জন্য বিশ্বাসযোগ্য এক ডকুমেন্টেশনে নেমেছেন।
বর্তমানে তিনি দেশ বিদেশের নানা প্রিন্টিং ও অনলাইন মাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জগৎজ্যোতি দাসকে নিয়ে তাঁর রচিত মঞ্চনাটক ‘জ্যোতিসংহিতা’ ঢাকা, সিলেট সহ ভারতে বহুবার প্রদর্শিত হয়। থিয়েটারভিত্তিক দেশের খ্যাতনামা সাময়িকী ‘থিয়েটারওয়ালা’র ৩৩তম সংখ্যায় স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে থিয়েটারের ইতিহাসে নির্বাচিত সেরা পঞ্চাশটি নাটকের মধ্যে স্থান পেয়েছে ‘জ্যোতিসংহিতা’।
রুমা মোদক হবিগঞ্জ জেলার বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে পড়াশোনা করেন। যায় যায় দিন প্রতিদিনে সাব ইডিটর হিসেবে কর্মজীবনের শুরু, বর্তমানে তিনি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
বর্তমানে তিনি পেশাগত কারণে সপরিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
