কণ্ঠস্বর শুনে চিহ্নগুলো প্রকাশ করা সম্ভব, অজ্ঞতাও জানা হয়েছিল দুপুরে…তোমার শাখা-প্রশাখায় অস্থিরতা নির্মাণ করেছ কিছু প্রসাধনী মেখে, এখন শাদা ঘোড়াকে প্রশ্রয় দিয়ে দেখা যেতে পারে কুয়াশায় ক্রেতাদের ভাষা কতটা ধর্মীয় হয়, ধর্ম এমন কোনো সূত্র দেয়নি যা দিয়ে বৃষ্টিতে আঁকা যেতে পারে সোনার সংসার, বিকেলের আলোতে ছায়া যতটা লম্বা দেখা যায় তা ভোরের আলোতেও সম্ভব কারণ ভোরের বাতাসে পড়ে থাকতে দেখা যায় প্রার্থনার ফুল, একদিন ক্ষুধা ও চুম্বনের ভাষা নিয়েছিলাম, এমন কিছু চিহ্ন পাঠ করে যাদের দ্রুত কোনো রূপরেখা টানা যায় না…
খ
খঞ্জনির ব্যস্ততা দেখে বলি আরো দীর্ঘ ছিল তার পথ, আহা বড় ভালো ছিল ছেলেটা, ঝুমঝুম শব্দে মাতিয়ে রাখত সারাটা আকাশ, তার হাতের লেখা ছিল আমাদের বাড়ির আনন্দের মতো, তার ছায়া দেখে বলে দেওয়া যেত এবার আমের ফলন ভালো হবে আর ঝড় হবে অনেক দূরের বাড়ি অব্দি, দূরত্ব বেড়ে গেলে আমরা অনুশোচনায় পৃথিবী ভেঙে ফেলি, পরিচিত হই ভাষাবিজ্ঞানীদের সাথে যাদের গল্প শোনা যায় নানারকম পত্রিকায়, ওয়েবসাইটে যাদের স্নানের শব্দ ও আলোকিত মুখগুলো দেখা যায়, পাখিদের ডানায় লেখা থাকে স্বপ্ন স্বর্গ…যেসব চরিত্র নিয়ে আমরা আমাদের দলিল বা ভাঙনের নির্জনতা নির্ণয় করি তা কখনোই বিক্রয়ের জন্য তুলে রাখি না বা আরো যদি পরিষ্কার করে বলি কখনোই নিজের সন্তানকে ধরিয়ে দেই না একই নাটকীয়তায়, তাদের জন্য তৈরি করে রাখি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের কিছু ফুটেজ যা দিয়ে প্রুফ করা সম্ভব নিজের শক্তি সঙ্গীত
গ
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ছিল সবকিছু, ট্রেনের শব্দের যে মুগ্ধতা তাও আজ বুঝিয়ে দিতে হয়। কতরকম ভাবে পথ চলা হয়, ট্রেনের শব্দ আর পাখিদের ঘরবাড়ি ছিল স্তব্ধতার একটা জিজ্ঞাসা, এত এত ঈশ্বরের নাম জানি যা দেখাতে গিয়ে বুঝে নেই ব্যক্তিগত বলতে কোনোদিন কিছুই ছিল না, ব্যস্ততা দেখাতে হয় তাই অপমান করে দূরত্ব সৃষ্টি করি নিজেরই নাটকের, থিয়েটারওয়ালা হই বন্ধুর চোখে সংলাপ দিয়ে, শাদা প্রজাপতির ভিন্ন অর্থ তখনই তোলা সম্ভব যখন বিক্রয়যোগ্য করে আনা হবে মধু ও বিষের দাঁতগুলো…
ঘ
ঘর্ষণের সকল পরিণতি যদি জানা থাকে তবে তো ওঙ্কার বা উচ্চারণের কোনো বালাই দেখি না…
ঙ
ঙ দিয়ে যা হয় তাদের কোনো সংসার থাকে না যেসব শব্দ দিয়ে সংসার সৃষ্টি হয় মূলত তারাই নির্জনতার সাতটি পর্দা
চ
চক্রান্ত হলেও এমন হওয়ার কথা নয়, একটু চওড়া দেখে যেদিকেই হাত বাড়ানো গেল…পৃথিবীর আলো বা প্রকৃতি যা-ই বলো সময়জ্ঞান কারোরই জানার কথা না, রাত দুইটা হলে কোনো স্বাদই আসবে না খাবারে অথচ খাদ্য নিয়ে যেমন খুশি নাচতে শুরু করল, যার এক-ফোঁটাও কেউ বুঝতে পারেনি…বলছি না রুগ্ণ ছিল প্রতিভা, তুমিও স্বীকার করছ যা যা হয়েছে সবই শামুকের চরিত্রকে মনে রেখে, তবু অন্য একটা হিসাব মিলাতে পারছি না… যেভাবে স্বাদ সৃষ্টি করা হয় ঠিক একই ফর্মায় কী করে রাতের শূন্যতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, চিতায় তোলা হয় বালকের প্রিয় কয়েকটি পাখি
ছ
ছায়াসঙ্গীত হচ্ছে আমাদেরই প্রতিবিম্ব, ছায়াশূন্য হওয়ার আগে যাদের নিয়ে মহল তৈরি করছ তারা সকলেই ছিল পুতুলের সঙ্গী, ধীরে ধীরে যখন উচ্চারণগুলো একটা অর্থ তুলে দেবে, সীমানা ঠিক করে বলবে আকাশে ওঠার জন্য রাস্তা ছিল ওইদিকে, আর এইটা হচ্ছে নাটকের প্রথমদিকের স্ক্রিপ্ট
জ
জঞ্জাল মনে করতে পারলে সুখ, আরো কিছু খাতায় তুলে আনা যাবে প্রতিশ্রুতির মালা, সম্মেলনে বলা যাবে যাদের জন্য বৃষ্টি ছিল একটা জ্যামিতিক সূত্র অথচ এখন তাদের গায়ে উড়ছে প্রজাপতির ছায়া…
ঝ
ঝংকারে উজ্জ্বল দেখায় রাতের পাতাগুলো, যেভাবেই রঙ নিয়েছিলাম…যদি উজ্জ্বলতা হয় বা জ্যোৎস্থায় ছিল জাগরণের আরেক নগর, যার মন্ত্র পড়ে সাহস নিত পাড়ার ছেলেরা, নিসর্গের এই আশ্চর্য ব্যবহারে কোনো রঙই যেন আর প্রসারিত ঠিকানায় গুঞ্জন তোলে না;–বসন্তের আবার সময়-অসময় কী…প্রয়োজন ছিল তাই হাত লাগিয়েই নিয়েছি, তুমি ভাই স্মৃতিতেই নিঃশ্বাস নাও, ঝংকারে উজ্জ্বল হবে শনিবার
ঞ
ঞ হচ্ছে আমাদের সরলতার একটা প্রকাশ, যা দিয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজে পেয়েছি মগ্ন হওয়ার জন্য একটা টিকটিকি, অথচ এখন হিসেব মিলিয়ে দেখি শনিবার ছিল প্রজাপতিদের স্তব্ধদুপুর
____________________ # # #

জন্ম ১৯৭৮ সালের ৫ জানুয়ারি, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী শহর সিলেটে। তবে তাঁর বংশপরিচয়ের সূত্র টানলে ফিরে যেতে হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘আলী আমজাদের ঘড়ি’র কাছে-যার পারিবারিক রক্তধারা তাঁর শরীরেও বহমান। শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতিতে সিলেট যেমন একটি ভৌগোলিক নাম, তেমনি একটি সাংস্কৃতিক ও আবেগী পরিমণ্ডল। বর্তমানে তিনি পেশাগত কারণে সপরিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
তিনি বিষাদমুক্ত জীবনবোধে আস্থাশীল, ভ্রমণপ্রিয় এবং বন্ধুবৎসল মানুষ হিসেবে পরিচিত। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতায় সক্রিয় সায়েম একাধারে কবি, সম্পাদক, পুস্তকপ্রকাশক, স্থিরচিত্রগ্রাহক এবং স্বতঃপ্রণোদিত তথ্যচিত্রনির্মাতা। আবির্ভাবকাল অনুযায়ী তিনি একবিংশ শতকের প্রথম দশকের লেখকপ্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি- অনক্ষর ইশারার ঘোর (২০১৫), কয়েক পৃষ্ঠা ভোর (২০১৯) এবং রুদ্ধজনের রাগ ও সম্বিৎ (২০২৫)। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতার ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Layers of Dawn। প্রকাশিতব্য দুইটি কবিতার বই রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই বের করার প্রস্তুতি চলতেছে। একটি ‘কবিতার খাতায় আঁকা ফিুড়ং’ এবং ‘আব্বার আনন্দবাজার’ নামে।
তিনি সম্পাদনা করছেন সাহিত্যপত্র সূনৃত এবং ওয়েবম্যাগ রাশপ্রিন্ট।
ছোটকাগজ সম্পাদনার জন্য ২০১৩ সালে তিনি অর্জন করেন ‘সমুজ্জ্বল সুবাতাস’ সম্মাননা।
প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী ফিলাডেলফিয়ায় ‘বইমেলা২০২৫’ মতো একটি আয়োজন, যার সাথে তিনিও আয়োজকদের একজন ছিলেন। এবং ‘ফিলাডেলফিয়া’ নামের সাহিত্য পত্রিকাটি তিনি সম্পাদনা করেন।
সায়েমের নানা বাড়ি হচ্ছে সিলেটের মামনফুর এলাকায়। নানার নাম সৈয়দ মোস্তকিন আলি
বিষাদমুক্ত, ভ্রমণপ্রিয়, বন্ধুবৎসল। ফোন : +1 (929) 732-5421 ইমেল: ahmedsayem@gmail.com
