উপন্যাস – নারগিস, লেখক – পারমিতা হিম, প্রথম সংস্করণ – মার্চ ২০১৮, রচনাকাল – ২০১২ –২০১৮, প্রচ্ছদ – মোস্তাফিজুর রহমান, প্রকাশক – বহিঃপ্রকাশ, পৃষ্ট – ২০৪, মূল্য – ৫০০।
যেমন – ‘ওর চোখে সত্যি সত্যি একটু পানি। তবে সেটা গড়াচ্ছে না। সারা মুখে গড়াগড়ি খাচ্ছে দারুণ যন্ত্রণা। সূর্য ডুবে যাবার আগে সারা আকাশ লাল করে আছে। সে লালচে আভা ওর মুখে ছড়ানো।’ বা ‘একটা ইকোনো ডিএক্স কলম নিয়ে দুই ঘণ্টা বসে বসে ফিতা আগের মত স্বাভাবিক করার পর প্লেয়ার অন করে দেখি ক্যাসেটটা আর চলে না।’ এই উপন্যাসের শেষে আরেক জন নায়িকার মুখে যখন ‘আম্মা’ , ‘আম্মা’ ডাক শুনবেন আমার মতো আপনারও বুক কেঁপে ওঠতে পারে, মনে হতে পারে আম্মা ডাকটা অনেক দিন আপনি শোনেননি বা ডাকেননি। আম্মা…। ‘পৃথিবীটা কি একটা বিশাল এয়ারপোর্ট না যেইখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাচ্ছে আর আসছে? এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার ভাষা, পরিচিত সব ভাষার মধ্যে থেকেও নিজের একটা ভাষা তৈরী করে নেয়া যায় তা নারগিস পড়লেই অনুধাবন-যোগ্য।
জন্ম ১৯৭৮ সালের ৫ জানুয়ারি, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী শহর সিলেটে। তবে তাঁর বংশপরিচয়ের সূত্র টানলে ফিরে যেতে হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘আলী আমজাদের ঘড়ি’র কাছে-যার পারিবারিক রক্তধারা তাঁর শরীরেও বহমান। শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতিতে সিলেট যেমন একটি ভৌগোলিক নাম, তেমনি একটি সাংস্কৃতিক ও আবেগী পরিমণ্ডল। বর্তমানে তিনি পেশাগত কারণে সপরিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
তিনি বিষাদমুক্ত জীবনবোধে আস্থাশীল, ভ্রমণপ্রিয় এবং বন্ধুবৎসল মানুষ হিসেবে পরিচিত। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতায় সক্রিয় সায়েম একাধারে কবি, সম্পাদক, পুস্তকপ্রকাশক, স্থিরচিত্রগ্রাহক এবং স্বতঃপ্রণোদিত তথ্যচিত্রনির্মাতা। আবির্ভাবকাল অনুযায়ী তিনি একবিংশ শতকের প্রথম দশকের লেখকপ্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি- অনক্ষর ইশারার ঘোর (২০১৫), কয়েক পৃষ্ঠা ভোর (২০১৯) এবং রুদ্ধজনের রাগ ও সম্বিৎ (২০২৫)। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতার ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Layers of Dawn। প্রকাশিতব্য দুইটি কবিতার বই রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই বের করার প্রস্তুতি চলতেছে। একটি ‘কবিতার খাতায় আঁকা ফিুড়ং’ এবং ‘আব্বার আনন্দবাজার’ নামে।
তিনি সম্পাদনা করছেন সাহিত্যপত্র সূনৃত এবং ওয়েবম্যাগ রাশপ্রিন্ট।
ছোটকাগজ সম্পাদনার জন্য ২০১৩ সালে তিনি অর্জন করেন ‘সমুজ্জ্বল সুবাতাস’ সম্মাননা।
প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী ফিলাডেলফিয়ায় ‘বইমেলা২০২৫’ মতো একটি আয়োজন, যার সাথে তিনিও আয়োজকদের একজন ছিলেন। এবং ‘ফিলাডেলফিয়া’ নামের সাহিত্য পত্রিকাটি তিনি সম্পাদনা করেন।
সায়েমের নানা বাড়ি হচ্ছে সিলেটের মামনফুর এলাকায়। নানার নাম সৈয়দ মোস্তকিন আলি
বিষাদমুক্ত, ভ্রমণপ্রিয়, বন্ধুবৎসল। ফোন : +1 (929) 732-5421 ইমেল: ahmedsayem@gmail.com
